| বঙ্গাব্দ

দেশে চরম বৈষম্য ও অমানবিক রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে: জি এম কাদের | গণভোটে ‘না’ ভোটের আহ্বান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-02-2026 ইং
  • 1979542 বার পঠিত
দেশে চরম বৈষম্য ও অমানবিক রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে: জি এম কাদের | গণভোটে ‘না’ ভোটের আহ্বান
ছবির ক্যাপশন: জি এম কাদের

বিভাজন ও বিদ্বেষ দেশকে ১৮ কোটি মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে: জি এম কাদের

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বর্তমান বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক বিভাজন, বিদ্বেষ এবং দখলদারিত্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইনসাফ ও সাম্যের কথা বলে দেশে আজ চরম বৈষম্য আর এক অমানবিক রাষ্ট্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানুষের বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গভীর রাতে নিজের ও দলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য যে, ওইদিন বেশ কয়েকটি বড় দলের প্রধানরা বিটিভিতে ভাষণ দিলেও জাপা চেয়ারম্যানকে সেখানে দেখা যায়নি।

মাতৃভূমি আজ যেন ‘মৃত্যুপুরী’

জি এম কাদের দেশের বর্তমান অবস্থাকে ‘মুমূর্ষু’ ও ‘মৃত্যুপুরী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "দিনেদুপুরে প্রতিপক্ষকে খুন করে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। মন্দির, গির্জা ও মাজারে পৈশাচিক উল্লাস হচ্ছে, অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার।" তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে, শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে এবং দেশের সীমান্ত আজ অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। নারী অধিকারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নারীরা আজ নিজ দেশে পরবাসী, তাদের শিল্প-সংস্কৃতি ও চলাফেরা আজ শকুনের নখরে বন্দি।"

জুলাই আন্দোলনে জাতীয় পার্টির ভূমিকা ও গণভোটে ‘না’ ভোট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাতীয় পার্টির সক্রিয় অংশগ্রহণের দাবি করে জি এম কাদের বলেন, রংপুরে তাদের দুজন কর্মী (মিরাজুল ও মানিক) শহীদ হয়েছেন এবং শতাধিক নেতাকর্মী মামলার শিকার হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সংবিধানের ৩৮টি পরিবর্তন লুকিয়ে রেখে যে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, তা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। এই পরিবর্তনের ফলে দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাই আমি দেশবাসীকে গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংবিধানে পরিবর্তনের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়।

  • ১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমলে বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষ বারবার অধিকারের প্রশ্নে বিভক্ত ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন এই অঞ্চলের সাংবিধানিক ইতিহাসের অন্যতম ভিত্তি।

  • ১৯৭০-১৯৭১: সত্তরের নির্বাচনে জয়ী হয়েও ক্ষমতা না পাওয়ায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

  • ১৯৮০-এর দশক: জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে সংবিধানে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়, যা আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় আলোচনার বিষয়।

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাকে জি এম কাদের ‘অস্বচ্ছ’ বলে অভিহিত করেছেন। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা গণতন্ত্রের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এই গণভোট ও নির্বাচনকে জাতীয় পার্টি একটি ক্রান্তিকাল হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নির্বাচিত সংসদ ছাড়া সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন জাতীয় ঐকমত্যের পরিপন্থী।

নির্বাচনের সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহ (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

আজ প্রচারণার শেষ দিনে সারা দেশে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে:

  • তারেক রহমান: ১৯ দিনের প্রচারণা শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন এবং ভোটারদের সতর্ক থাকতে বলেছেন।

  • মির্জা ফখরুল: সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র চর্চার নতুন সুযোগ তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  • ইইউ পর্যবেক্ষণ: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৫ সদস্যের দল জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং ২০০ পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথা জানিয়েছে।

  • ইসি সচিব: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ফল প্রকাশের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।


বিশ্লেষণ প্রতিবেদন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জি এম কাদেরের এই ‘না’ ভোটের আহ্বান এবং জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ততার দাবি আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। একদিকে বিএনপি ও জামায়াত তাদের অবস্থান সংহত করছে, অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষ শক্তি’ হিসেবে নিজেকে জাহির করে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চাইছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে যে, সংকটকালে তৃতীয় কোনো শক্তির অবস্থান জনমতকে প্রভাবিত করে। গণভোটে ‘না’ ভোটের এই প্রচারণা সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্র: জি এম কাদেরের ভিডিও বার্তা (ফেসবুক), দৈনিক ইত্তেফাক এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency